একটি আদর্শ কান্ডের বিভিন্ন অংশ

একটি আদর্শ কান্ডের বিভিন্ন অংশ

Screenshot ২০২১০৬১৩ ১৮৪৩৫৭
একটি আদর্শ কান্ডের বিভিন্ন অংশ

একটি আদর্শ কান্ড ভ্রূণমুকুল থেকে গঠিত হয়ে সবসময় মাটির উপরের দিকে অর্থাৎ আলাের দিকে যায় । একে আলােক অনুকূলবর্তী ( Positively Phototropic ) বলে । আদর্শ কান্ড সাধারণত লম্বা এবং এর পরিধি গােলাকার হয় । একটি আদর্শ কান্ডে সাধারণত নিম্নলিখিত অংশগুলি থাকে , যেমন―

পর্ব 

কান্ডের গায়ে প্রায় সমান দূরত্বে কতকগুলি গাঁট থাকে , এদের পর্ব বলাহয় । বহু গাছের গাঁট বা পর্ব অনেকটা ফোলা থাকে । উদাহরণ― বাঁশ । 

কাজ ― শাখা , কুঁড়ি , পাতা , ফুল , ফল সৃষ্টি করা ।

পর্বমধ্য

দুটি পর্বের মাঝের অংশকে পর্বমধ্য বলা হয় । এখানে কোনাে শাখা , পাতা ও ফুল থাকে না । 

কাজ ― কান্ডকে খাড়াভাবে রাখতে সাহায্য করে । 

পাতা 

পর্ব থেকে উৎপন্ন সবুজ বর্ণের চ্যাপটা প্রসারিত অংশকে পাতা বলা হয় । প্রত্যেকটি পর্বে একটি দুটি বা বেশি পাতা থাকে । 

কাজ ― খাদ্য তৈরি করে ।

কক্ষ 

পর্বে পাতা ও কান্ডের সংযােগস্থলে যে সূক্ষ্ম কোণের সৃষ্টি হয় , তাকে কক্ষ বলা হয় । এখানে মুকুল উৎপন্ন হয় । 

কাজ — শাখা প্রশাখা , ফুল , ফল ধারণ করে । 

মুকুল 

পাতার কক্ষে যে মুকুল থাকে তাকে কাক্ষিক মুকুল ( Axillary bud ) বলে । কান্ডের শীর্ষে যে মুকুল থাকে তাকে অগ্রমুকুল বা শীর্ষ মুকুল ( Terminal bud ) বলে । পাতা ও কান্ডের কক্ষে দু’প্রকার কাক্ষিক মুকুল সৃষ্টি হয় — শাখামুকুল ও পুষ্পমুকুল । 

শাখামুকুল — যে মুকুল শাখা সৃষ্টি করে তাকে শাখামুকুল বলে । শাখামুকুল একপ্রকার অঙ্গজ মুকুল ( Vegetative bud ) । যে মুকুল থেকে পাতা গঠিত হয় তাকে পত্রমুকুল ( Leaf bud ) বলে । 

পুষ্পমুকুল  — যে মুকুল থেকে ফুল হয় তাকে পুষ্পমুকুল বলে । পুষ্পমুকুলকে জনন মুকুলও বলা হয় । অনেক সময় একটির বেশি মুকুল কক্ষে জন্মায় । এদের উপমুকুল ( Accessory bud ) বলে । উদাহরণ — দুরন্ত ( Duranta ) , ছাতিম ( Alstonia ) । 

কাজ — কান্ডকে লম্বায় বাড়ায় ও জনন অঙ্গ উৎপন্ন করে ।

কান্ডের শাখা বিন্যাস 

কান্ডের শাখা যে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে সাজানাে থাকে তাকে শাখা বিন্যাস বলে । শাখা বিন্যাস দু’ভাবে হয় — পার্শ্বীয়দ্ব্যগ্র বা দ্বিশীর্ষক শাখা । ভ্রূণমুকুল থেকে গঠিত উদ্ভিদের মাটির উপরের অক্ষ হল কান্ড । কান্ডের পত্ৰকক্ষ থেকে তির্যকভাবে উৎপন্ন ও কান্ডের মতাে গঠন যুক্ত অংশগুলিকে শাখা এবং শাখা থেকে একইভাবে নির্গত অংশকে প্রশাখা বলে । সাধারণত একবীজপত্রী উদ্ভিদ শাখাবিহীন হয় । দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ শাখাপ্রশাখা গঠন করে । 

কাজ — শাখাপ্রশাখা গুলি ফুল ও ফল ধারণ করে ।

error: Content is protected !!