একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের অন্তর্গঠন

একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের অন্তর্গঠন

IMG ২০২১০৬১০ ১০৪১৫৪1
একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের অন্তর্গঠন

একটি একবীজপত্রী কান্ডের ( যথা — ভুট্টা ) প্রস্থচ্ছেদ করলে নিম্নলিখিত কলাগুলি বাইরে থাকে ভিতরের দিকে যথাক্রমে সাজানাে থাকতে দেখা যায়— 

ত্বক 

এটি একসারি আয়তক্ষেত্রাকার , ঘনসন্নিবিষ্ট সজীব প্যারেনকাইমা কোশ দ্বারা গঠিত । কোশগুলির বাইরের প্রাচীরে কিউটিকল -এর আবরণ থাকে । ত্বকে কোনাে রােম থাকে না , কিন্তু পত্ররন্ধ্র বর্তমান ।

আদিকলা 

এক্ষেত্রে কান্ডটি অন্তঃস্টিলীয় ও বহিঃস্টিলীয় অঞ্চলে বিভেদিত না হওয়ায় কান্ডে কোনােরকম বহিঃস্তর , শ্বেতসার আবরণী বা অন্তস্ত্বক প্রভৃতি থাকে না । আদি কলা অধস্ত্বক থেকে শুরু করে কান্ডের কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে এবং কেবলমাত্র কোশান্তর রন্ধ্রবিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোশ দ্বারাই গঠিত । আদি কলা নিম্নলিখিত অঞ্চল দ্বারা গঠিত , যথা— 

অধস্ত্বক :

এটি ত্বকের ঠিক নীচেই অবস্থিত এবং সাধারণত দু-তিন সারি স্ক্লেরেনকাইমা অথবা স্থূল প্রাচীরবিশিষ্ট প্যারেনকাইমা কোশ দ্বারা গঠিত । 

প্যারেনকাইমা অঞ্চল :

পাতলা প্রাচীর ও কোশান্তর রন্ধ্রবিশিষ্ট সজীব প্যারেনকাইমা কোশ দ্বারা গঠিত এই অঞ্চলটি অধস্ত্বকের পর থেকে শুরু করে কান্ডের কেন্দ্র পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে । এই অঞ্চলে নালিকা বান্ডিলগুলি বিন্যস্ত থাকে । 

নালিকা বান্ডিল 

বহুসংখ্যক নালিকা বান্ডিল আদিকলার কোশগুলির মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে নিহিত থাকে । অধস্ত্বকের দিকের নালিকা বান্ডিলগুলি আকারে ক্ষুদ্র হয় এবং তারা ঘনসন্নিবিষ্ট ভাবে অবস্থান করে । কিন্তু কেন্দ্রের দিকের বান্ডিলগুলি আকারে বড় হয় এবং বিস্তৃত থাকে । প্রকৃতপক্ষে একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের স্টিলি ‘ ইউস্টিলি ‘ ( eustele ) থেকে উৎপন্ন হয় এবং তারা বিক্ষিপ্তভাবে অবস্থান করায় ওই প্রকার স্টিলিকে অ্যাটাক্টোস্টিলি ( atactostele ) বলা হয় । 

নালিকা বান্ডিলগুলি সমপার্শ্বীয় এবং বদ্ধ । নালিকা বান্ডিল -এর জাইলেম ও ফ্লোয়েম কলার মধ্যবর্তী অংশে ক্যাম্বিয়াম থাকে না ( বদ্ধ সমপার্শ্বীয় ) । প্রত্যেক নালিকা বান্ডিল স্ক্লেরেনকাইমা কোশের আবরণী দ্বারা আবৃত থাকে — এই আবরণীকে বান্ডিল আবরণী ( bundle sheath ) বলে । মেটাজাইলেম বাহিকা দুটি পাশাপাশি এবং প্রােটোজাইলেম বাহিকাটি মেটাজাইলেম বাহিকা দুটির নীচের মধ্যবর্তী অংশে ইংরেজি ‘ Y ‘ অক্ষরের মতাে সাজানাে থাকে । ফ্লোয়েম কেবলমাত্র সিভনল এবং সঙ্গীকোশ দ্বারা গঠিত । জাইলেম দ্বারা গঠিত ‘ Y ‘- এর দুটি বাহুর একটু ওপরের দিকে ফ্লোয়েম কলাগুচ্ছ অবস্থান করে । প্রােটোজাইলেমকে ঘিরে একটি রন্ধ্র থাকে , তাকে প্রােটোজাইলেম রন্ধ্র ( protoxylem cavity ) বা লাইসিজিনাস রন্ধ্র ( lysigenous cavity ) বলে । অনেক সময় একে বাতাবকাশ ( air cavity ) -ও বলা হয় । 

এক্ষেত্রে মজ্জাংশু বা মজ্জা থাকে না , কারণ নালিকা বান্ডিলগুলি আদিকলার মধ্যে বিক্ষিপ্তভাবে বিস্তৃত থাকে ।

error: Content is protected !!