অস্থানিক মূল কাকে বলে

অস্থানিক মূল কাকে বলে

Screenshot ২০২১০৬০৮ ১৯০৫০৮
অস্থানিক মূল কাকে বলে

ভ্রূণমূল থেকে উৎপন্ন হয়ে উদ্ভিদের অন্য কোনাে অঙ্গ থেকে যে মূল উৎপন্ন হয় তাকে অস্থানিক মূল বলে । এবং এইপ্রকার মূলতন্ত্রকে অস্থানিক মূলতন্ত্র ( adventitious root system ) বলা হয় । স্থান ও প্রকৃতি অনুযায়ী অস্থানিক মূল বিভিন্ন প্রকারের হয় ,যেমন – i. গুচ্ছ মূল ( Fibrous root ) ii. পত্ৰজ মূল ( Foliar root ) iii. কান্ডজ মূল ( Cauline root ) ।

গুচ্ছ মূল 

প্রধান মূল মাটিতে ঢােকার পর কিছুদিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায় । ভ্রূণমূল ও ভ্রূণমুকুলের সংযােগস্থল থেকে অসংখ্য সরু সরু অস্থায়ী মূল বেরিয়ে এসে মূলের মতাে কাজ করতে থাকে । এদের সেমিনাল মূল ( Seminal root ) বলে । সেমিনাল মূল কিছুদিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে কান্ডের গােড়া থেকে ছােটো ছােটো মূল গুচ্ছাকারে জন্মায় । এদের গুচ্ছ মূল বলে । এই ধরনের মূল একবীজপত্রী উদ্ভিদের প্রধান বৈশিষ্ট্য । উদাহরণ – ধান ( Oryza sativa ) , গম ( Triticum aestivum ) ,  ভুট্টা ( Zea mays ) প্রভৃতি । 

পত্ৰজ মূল 

পাতা থেকে মূল সৃষ্টি হলে তাকে পত্ৰজ মূল বলে । কয়েকটি উদ্ভিদের পাতা কিছুদিন মাটির সংস্পর্শে থাকলে পাতার কিনারা থেকে মূল বেরিয়ে আসে তা হল পত্ৰজ বা পত্ৰাশ্রয়ী মূল ( Foliar root ) । এই জাতীয় মূল বর্ষাকালে বেশি দেখা যায় । উদাহরণ — পাথরকুচি ( Bryophyllum calycinum  ) । 

কান্ডজ মূল

কান্ড থেকে উৎপন্ন মূলকে কান্ডজ মূল বলে । বটগাছের ( ficus benghalensis ) কান্ড থেকে মূল সৃষ্টি হয়ে মাটির দিকে নেমে আসে । একে স্তম্ভমূল ( Prop root ) বলে । তাছাড়া কেয়া ( pandanus tectorius ) ও গজপিপুল ( Scindapsus officinalis ) কান্ড থেকেও মূল উৎপন্ন হতে দেখা যায় । ভুট্টা ( Zea mays ) , আখ ( saccharum officinarum) , গোলাপ ( Rosa centifolia ) , জবা ( hibiscus rosa sinensis ) , গাঁদা ( Tagetes patula ) প্রভৃতি উদ্ভিদের কান্ড মাটিতে পুঁতে দিলে কিছুদিনের মধ্যে অস্থানিক মূল উৎপন্ন হয় ।

error: Content is protected !!