প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম কাকে বলে

প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম কাকে বলে 

উদ্ভিদের জাইলেম কলাকে দুভাগে বিভক্ত করা যায় , যেমন – প্রোটোজাইলেম ও মেটাজাইলেম ।

প্রোটোজাইলেম

উদ্ভিদের প্রথম উৎপন্ন ছােটো গহ্বর যুক্ত জাইলেম বাহিকাগুলিকে প্রোটোজাইলেম বলে । 

প্রোটোজাইলেম এর বৈশিষ্ট্য :

প্রোটোজাইলেমের কতকগুলি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল— 

( i ) প্রােক্যাম্বিয়াম থেকে বিভেদিত হয়ে প্রােটোজাইলেম কোশগুলি গঠিত হয় । 

( ii ) প্রােটোজাইলেম ট্র্যাকিড , ট্র্যাকিয়া ও জাইলেম প্যারেনকাইমা নিয়ে গঠিত । এদের কোনাে জাইলেম তন্তু থাকে না । 

( iii ) কোশগুলি সরু ও লম্বা । কোশপ্রাচীর সেলুলােজ দিয়ে গঠিত । 

( iv ) কোশপ্রাচীরে লিগনিন জমা হয়ে বলয়াকার , সর্পিলাকার বা সােপানাকার স্থূলীকরণ গঠন করে । 

( v ) ভুট্টা জাতীয় একবীজপত্রী উদ্ভিদের কান্ডের প্রােটোজাইলেম কলা বিনষ্ট হয়ে একটি গহ্বর তৈরি করে । একে প্রোটোজাইলেম গহ্বর ( Protoxylem Cavity ) বলে । 

প্রোটোজাইলেম এর প্রকারভেদ :

বিন্যাস পদ্ধতি অনুযায়ী প্রোটোজাইলেম তিন প্রকারের হয় , যেমন—

এক্সার্ক জাইলেম :

জাইলেম উদ্ভিদ অক্ষের কেন্দ্রের দিকে থাকে । প্রোটোজাইলেম পরিধির দিকে এবং মেটাজাইলেম কেন্দ্রের দিকে সজ্জিত হলে তাকে এক্সার্ক জাইলেম ( Exarch xylerm ) বলে । উদাহরণ – মূল ।

এন্ডার্ক জাইলেম :

প্রােটোজাইলেম কেন্দ্রের দিকে এবং মেটাজাইলেম পরিধির দিকে সজ্জিত হলে , তাকে এন্ডার্ক জাইলেম ( Endarch xylem ) বলে । উদাহরণ – কান্ড । 

মেসার্ক জাইলেম :

মধ্যভাগে প্রােটোজাইলেম এবং মেটাজাইলেম প্রােটোজাইলেমকে আবৃত করে বিন্যস্ত হলে তাকে মেসার্ক জাইলেম ( Measarch xylem ) বলা হয় । উদাহরণ – পাতা । 

মেটাজাইলেম 

উদ্ভিদ অঙ্গের বৃদ্ধি ঘটার পরে উৎপন্ন বড়ো গহ্বর যুক্ত জাইলেম বাহিকাগুলিকে মেটাজাইলেম বলে । 

মেটাজাইলেম এর বৈশিষ্ট্য

মেটাজাইলেম কোশগুলির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল 一

( 1 ) প্রােক্যাম্বিয়াম কোশ থেকে গঠিত হয় । 

( ii ) মেটাজাইলেম ট্র্যাকিড , ট্র্যাকিয়া , জাইলেম প্যারেনকাইমা ও জাইলেম তন্তু নিয়ে গঠিত । 

( iii ) কোশপ্রাচীরে জালিকাকার , সােপানাকার কূপাঙ্কিত স্থূলীকরণ দেখা যায় । 

( iv ) জাইলেম প্যারেনকাইমা , ট্রাকিড ও ট্র্যাকিয়ার সঙ্গে অরীয়ভাবে বিন্যস্ত থাকে ।

error: Content is protected !!