ফ্লোয়েম কাকে বলে

ফ্লোয়েম কাকে বলে 

20191223a www.tes .com 1
ফ্লোয়েম কাকে বলে

উদ্ভিদের যে জটিল স্থায়ী কলার মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন খাদ্য সারা দেহে পরিবাহিত হয় তাকে ফ্লোয়েম কলা বলে । 

ফ্লোয়েম এর উৎপত্তি 

প্রোক্যাম্বিয়াম থেকে প্রাথমিক ফ্লোয়েম এবং ফ্যাসিকুলার ক্যাম্বিয়াম থেকে গৌণ ফ্লোয়েম কলা সৃষ্টি হয় । 

ফ্লোয়েম এর কাজ

ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পাতায় উৎপন্ন খাদ্যরস উদ্ভিদ দেহের বিভিন্ন অংশে সংবাহিত হয় ।

ফ্লোয়েম এর উপাদান :

ফ্লোয়েম পাঁচ প্রকার সজীব ও মৃত কোশ দিয়ে তৈরি । ফ্লোয়েমের অন্তর্গত কোশগুলি হল — সিভকোশ , সিভনল , সঙ্গীকোশ , ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা এবং ফ্লোয়েম তন্তু । 

সিভকোশ ( Sieve cell ) : 

ফ্লোয়েম কলায় সজীব , দীর্ঘ , সিভপ্লেট বিহীন কোশগুলিকে সিভকোশ বলে । 

সিভকোশ এর অবস্থান : ফার্ন ও ব্যক্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েমে থাকে । 

সিভকোশ এর গঠন বৈশিষ্ট্য : i. সিভকোশ দীর্ঘ , প্রান্তযুক্ত , সেলুলােজ নির্মিত পাতলা প্রাচীর বিশিষ্ট । ii. কোশের কেন্দ্রস্থ বড়াে গহ্বরের চারদিকে পাতলা স্তরের প্রােটোপ্লাজম থাকে । iii. কোশপ্রাচীরে কতগুলি ছিদ্র একত্রিত হয়ে সিভক্ষেত্র ( sieve area ) গঠন করে , ছিদ্রগুলিকে সিভ ছিদ্র ( sieve pore ) বলে । iv. কোনাে সিভ প্লেট ( sieve plate ) গঠিত হয় না । 

সিভকোশ এর কাজ : খাদ্য পরিবহণ ও সঞ্চয় এর প্রধান কাজ ।

সিভনল ( Sieve tube )  :

ছিদ্র যুক্ত প্রান্তপ্রাচীর বিশিষ্ট , নিউক্লিয়াস বিহীন নলাকার সজীব ফ্রোয়েম কলাকে সিভনল বলে । 

সিভনলের অবস্থান : গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েমে বর্তমান । 

সিভনলের গঠন বৈশিষ্ট্য : i. সিভনল কোশগুলি দেখতে লম্বা ও নলাকার । ii. কোশগুলিতে সাইটোপ্লাজম থাকে , কিন্তু নিউক্লিয়াস থাকে না । iii. কোশগুলি উল্লম্বভাবে পরপর একটি সারিতে সজ্জিত থাকে । iv. প্রান্তপ্রাচীর চালুনির মতাে ছিদ্রযুক্ত হয়ে সিভপ্লেট গঠন করে । v. পরিণত কোশে বড় কোশ গহ্বর থাকে । vi. কোশপ্রাচীর পাতলা এবং সেলুলােজ দিয়ে তৈরি । vii. সিভপ্লেটের মধ্য দিয়ে একটি কোশের সাইটোপ্লাজম রজ্জুর মতাে অন্য কোশের সাইটোপ্লাজমের সঙ্গে যুক্ত থাকে । viii. শীতকালে ক্যালােজ ( callose ) নামক একপ্রকার বর্ণহীন , কেলাসিত উজ্জ্বল কার্বোহাইড্রেট জমা হয়ে সিভ ছিদ্রগুলি বন্ধ হয়ে যায় , একে ক্যালাস ( callus ) বা ক্যালাস প্যাড ( callus pad ) বলে । বসন্তকালে এই ক্যালাস দ্রবীভূত হয়ে যায় । 

সিভনলের কাজ : পাতায় উৎপন্ন খাদ্যরস পরিবহন ও খাদ্য সঞ্চয় করা ।

সঙ্গীকোশ :

সিভনলের সঙ্গে সংলগ্নভাবে অবস্থিত নিউক্লিয়াস যুক্ত সজীব কোশগুলিকে সঙ্গীকোশ বলে । 

সঙ্গীকোশের  অবস্থান : গুপ্তবীজী উদ্ভিদে সঙ্গীকোশ বর্তমান ।

সঙ্গীকোশের গঠন বৈশিষ্ট্য : i. কোশগুলি দেখতে লেন্সের মতাে । ii. প্রতিটি সঙ্গীকোশে একটি বড়াে নিউক্লিয়াস থাকে । iii. কোশগুলির মধ্যে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গহ্বর থাকে । 

সঙ্গীকোশের কাজ : খাদ্যরস সংবহনে সাহায্য করে । 

ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ( Phloem parenchyma ) :

ফ্লোয়েমে অবস্থিত প্যারেনকাইমা কোশগুলিকে ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা বলে । 

ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা অবস্থান : দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের ফ্লোয়েম কলায় থাকে ।

ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা গঠন বৈশিষ্ট্য : i. কোশগুলি আকৃতিতে লম্বা ও সরু । ii. কোশগুলি সজীব । iii. কোশপ্রাচীর পাতলা । 

ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা কাজ : সংবহনে ও বিভিন্ন জৈব বস্তু সঞ্চয়ে সাহায্য করে ।  

ফ্লোয়েম তন্তু ( Phloem fibre ) :

ফ্লোয়েমে অবস্থিত স্ক্লেরেনকাইমা তন্তুগুলিকে ফ্লোয়েম তন্তু বা বাস্ট তন্তু ( Bast fibre ) বলে । 

ফ্লোয়েম তন্তু অবস্থান : গুপ্তবীজী উদ্ভিদের ফ্লোয়েম কলায় অবস্থিত । 

ফ্লোয়েম তন্তু গঠন বৈশিষ্ট্য : i. কোশগুলি লম্বা , সরু ও দু -প্রান্ত ছুঁচোলাে । ii. কোশগুলি মৃত । iii. কোশপ্রাচীর লিগনিন যুক্ত হওয়ায় খুব স্থূল । iv. কোশপ্রাচীরে কূপ বর্তমান । 

ফ্লোয়েম তন্তু কাজ : দৃঢ়তা প্রদান করা । 

error: Content is protected !!