ব্যাকটেরিওফাজ

ব্যাকটেরিওফাজ

Screenshot 2021 05 13 2015 457844 Jibabidya1 pdf3

যেসব ভাইরাস ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ ও ধ্বংস করে তাদের ব্যাকটেরিওফাজ বা ফাজ ভাইরাস ( Phage Virus ) বলে । 

বিজ্ঞানী দ্য হেরেলি ( d’Herelle ) 1917 খ্রিস্টাব্দে প্রথম ব্যাকটেরিওফাজ নামকরণ করেন । এরা সুনির্দিষ্ট প্রজাতির ব্যাকটেরিয়াকে আক্রমণ করে । ব্যাকটেরিওফাজ দেখতে ব্যাঙাচির মতাে । এদের T টাইপ ফাজও বলে , যেমন— T2 , T4 ভাইরাস ইত্যাদি । T জাতীয় ফাজ লম্বায় 65-200μm এবং চওড়ায় 50-70μm হয় । 

ব্যাকটেরিওফাজ ভাইরাস এর গঠন

ব্যাকটেরিওফাজ এর দেহ চারটি অংশ নিয়ে গঠিত মস্তক , গ্রীবা , পুচ্ছ ও প্রান্ত ফলক ।

মস্তক ( Head ) :

মস্তকটি ষড়ভুজাকার হয় । মস্তক প্রাচীরে দুটি প্রােটিন স্তর থাকে । এই অংশটি লম্বায় 95nm ও চওড়ায় 65nm । মস্তকের ফাঁপা অংশের মধ্যে 0.05nm লম্বা একটি দ্বিতন্ত্রী DNA অণু প্যাঁচানো অবস্থায় থাকে ।  

গ্রীবা ( Neck ) :

মস্তকের নীচে ছোটো নলাকার অংশ ও চাকতির মতাে কলার নিয়ে গ্রীবা গঠিত হয় । গ্রীবা নলটি উপরের দিকে মস্তক ছিদ্রের মধ্যে এবং নীচের দিকে পুচ্ছাংশের ছিদ্রের সঙ্গে আবদ্ধ থাকে । চাকতির মতাে কলার ( Collar ) পুচ্ছের উপরের দিকে আবদ্ধ হয় । 

লেজ বা পুচ্ছ ( Tail ) :

গ্রীবার নীচের দিকে নলের মতাে অংশকে পুচ্ছ বলে । পুচ্ছ নলের দুটি অংশ থাকে । মাঝখানের সরু নলের মতাে অংশকে মধ্যনল বা কোর ( Core ) বলা হয় । এই মধ্যনলের বাইরে প্রােটিন দিয়ে তৈরি সংকোচনশীল আবরণ থাকে । একে পুচ্ছ আবরণী বলা হয় । পুচ্ছ অংশটি লম্বায় প্রায় 95nm । 

প্রান্ত খন্ড ( End plate ) :

এই অংশটি পুচ্ছের নীচে থাকে । প্রান্ত খন্ড তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত , যেমন — 

( i ) প্রান্ত ফলক ( End plate ) — পুচ্ছের নীচে একটি ষড়বাহু যুক্ত প্রান্ত ফলক থাকে । প্রান্তফলকের কেন্দ্রে একটি ছিদ্র দেখা যায় । একে প্রান্ত ফলক ছিদ্র বলে ।

( ii ) কাঁটা বা স্পাইক ( Spike ) — প্রান্তফলকের নীচের দিকের ছয় কোণে 6 টি ত্রিভুজাকার ছােটো কাঁটা অবস্থান করে । 

( iii ) পুচ্ছতন্তু ( Tail fibre ) — প্রত্যেকটি কাঁটার সঙ্গে একটি লম্বা পুচ্ছতন্তু যুক্ত থাকে । পুচ্ছতন্তুর সাহায্যে ব্যাকটেরিওফাজ পােষক দেহপ্রাচীরের সঙ্গে নিজেকে দৃঢ়ভাবে আবদ্ধ করতে সক্ষম হয় । পুচ্ছতন্তু লম্বায় প্রায় 150nm হয় । পুচ্ছতন্তুর সাহায্যে ফাজ ব্যাকটেরিয়ার দেহে আবদ্ধ হয় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!