ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য

ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য

images 6
ভাইরাসের বৈশিষ্ট্য

ইলেকট্রন অনুবীক্ষণযন্ত্রে দৃশ্যমান , অকোশীয় , নিউক্লিওপ্রোটিন দ্বারা গঠিত রােগ সৃষ্টিকারী জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ের বস্তুকে ভাইরাস বলে । 

ভাইরাসের উল্লেখযােগ্য বৈশিষ্ট্য গুলি হল— 

( 1 ) ভাইরাস সর্বত্র বিরাজমান জীব ও জড়ের মধ্যবর্তী পর্যায়ের বস্তু । 

( 2 ) ভাইরাস অকোশীয় অর্থাৎ দেহে সাইটোপ্লাজম নেই । 

( 3 ) ভাইরাসের দেহ নিউক্লিওপ্রােটিন দ্বারা গঠিত । 

( 4 ) ভাইরাসের দেহের নিউক্লিক অ্যাসিড DNA ( ডি অক্সিরাইবাে নিউক্লিক অ্যাসিড ) অথবা RNA ( রাইবাে নিউক্লিক অ্যাসিড ) প্রকৃতির । 

( 5 ) শুধুমাত্র পােষক কোশেই ভাইরাস প্রজননক্ষম , পােষক কোশের বাইরে ভাইরাস সম্পূর্ণ জড়ের ন্যায় আচরণ করে । 

( 6 ) কোনােরূপ বিপাকীয় কাজ করতে ভাইরাস সক্ষম নয় । 

( 7 ) ভাইরাস সাধারণত রােগ সৃষ্টিকারী এবং বাধ্যতামূলক পূর্ণ পরজীবী ।

( 8 ) ভাইরাসের দেহে শ্বসন ও বিপাক ক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় না । 

( 9 ) এদের দেহ উৎসেচক বিহীন অথবা স্বল্প কয়েকটি উৎসেচক থাকে । 

( 10 ) প্রাণী ভাইরাসের দেহে ক্যাপসিডের বাইরে শর্করা-প্রােটিন ও লিপিড নির্মিত বাইরের আবরণ বা এভেলপ থাকে ।  

( 11 ) অভিযােজন ও পরিব্যক্তি ক্ষমতা ভাইরাসের সজীবতার অন্যতম লক্ষণ । 

( 12 ) ভাইরাস অ্যান্টিজেন হিসেবে কাজ করে এবং পােষক কোশে প্রবেশ করে অ্যান্টিবডি উৎপাদনে সাহায্য করে । 

( 13 ) ভাইরাসের বৃদ্ধি হয় না , তাই এদের নিজস্ব বিভাজন ক্ষমতা নেই । 

( 14 ) কৃত্রিম মাধ্যমে ভাইরাসের বৃদ্ধি ঘটে না , পরীক্ষাগারে পােষক কোশ পালন করে ভাইরাসের সংরক্ষণ করা যেতে পারে । 

( 15 ) ভাইরাস উদ্ভিদ , প্রাণী ও মানুষের রােগ সৃষ্টি করে । 

( 16 ) ভাইরাসের তাপ সহনশীলতা অধিক , সূর্যালােক কোনাে ক্ষতি করতে পারে না । 

( 17 ) ভাইরাস অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের অধিক তারতম্য সহ্য করতে পারে । অ্যান্টিবায়ােটিক ভাইরাসকে ধ্বংস করতে পারে না ।

ভাইরাসের সজীব বৈশিষ্ট্য ( Living characters of Virus ) 

ভাইরাসের মধ্যে প্রাণের যে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যগুলি দেখা যায় সেগুলি হলো —

i. ভাইরাস নির্দিষ্ট সজীব পােষক কোশে বংশবিস্তারে সক্ষম ।

ii. ভাইরাসের দেহে নিউক্লিক অ্যাসিড অর্থাৎ DNA অথবা RNA এবং প্রোটিন থাকে ।

iii. ভাইরাসের দেহে নিউক্লিক অ্যাসিডের পরিবর্তন বা পরিব্যক্তি ও বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন লক্ষ করা যায় ।

iv. ভাইরাস সম্পূর্ণ পরজীবী এবং সংক্রমণযােগ্য ।

v. ভাইরাস উদ্ভিদ , প্রাণী ও মানুষের রােগ সৃষ্টি করে । রােগ সৃষ্টি করা হলো সজীব কোশের বৈশিষ্ট্য ।

vi. ভাইরাস পােষক কোশের রাইবােজোমকে ব্যবহার করে প্রােটিন সংশ্লেষ করে । এছাড়া এরা লাইসােজাইম ও আরও কয়েকটি উৎসেচক সংশ্লেষ করতে পারে ।

ভাইরাসের জড় বৈশিষ্ট্য ( Non – living characters of Virus ) 

ভাইরাসের জড়ের উল্লেখযোগ্য লক্ষণ গুলি হল —


i. TMV ভাইরাসকে বিজ্ঞানী স্টানলি ( Stanley ) কেলাসরূপে পরিদ্ভুত করেছিলেন । সুতরাং বিশুদ্ধ ভাইরাস কণাকে কেলাসিত করা যায় ।

ii. নূন্যতম 5000Å স্থান কোশীয় ক্রিয়াকলাপের জন্য প্রয়ােজন কিন্তু 100-200Å এর বেশি ভাইরাসের দৈর্ঘ্য  হয় না ।

iii. ভাইরাসের দেহে সাইটোপ্লাজম অনুপস্থিত ।

iv. ভাইরাসের দেহে বিপাকক্রিয়া পরিচালনাকারী সমস্ত কোশীয় অঙ্গাণু অনুপস্থিত ।

v. ভাইরাসের দেহে শ্বসন , রেচন , ইত্যাদি শারীরবৃত্তীয় ক্রিয়া লক্ষ করা যায় ।

vi. বহিঃপরিবেশে ভাইরাসের জনন ও সংখ্যা বৃদ্ধি ঘটে না ।

vii. কোনাে বহিঃস্থ উদ্দীপকে ভাইরাস সাড়া দেয় না ।

viii. কৃত্রিম মাধ্যমে ভাইরাসের বৃদ্ধি ঘটে না ।

ভাইরাসের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ( Properties of virus of their own )

1971 সালে বিজ্ঞানী লউফটউরনিয়ার ( Lwoff and Toournier ,  ) ভাইরাসের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য গুলি উল্লেখ করেন । সেগুলি হল —

( 1 ) ভাইরাসের দেহে নিউক্লিক অ্যাসিড অর্থাৎ DNA অথবা RNA থাকে ।

( 2 ) প্রতিটি ভাইরাসের দেহে একটিমাত্র নিউক্লিক অ্যাসিডের অণু উপস্থিত ।

( 3 ) ভাইরাস পােষক দেহের বাইরে জড়ের মতাে আচরণ করে ।

( 4 ) ভাইরাসের পােষক কোশের অঙ্গাণু ও রাসায়নিক যৌগগুলিকে ব্যবহার করে প্রজনন সম্পন্ন হয় । এবং প্রজননে শুধুমাত্র জেনেটিক পদার্থটিই ব্যবহৃত হয় ।

( 5 ) ভাইরাসের দেহে রাইবােজোম ও শ্বসনতন্ত্র নেই ।

( 6 ) সমস্ত ভাইরাস সাধারণত রোগ সৃষ্টিকারী এবং বাধ্যতামূলক পরজীবী । এই কারণেই ভাইরাস হলো সম্পূর্ণ এক পৃথক সত্তা এবং অন্য কোনাে জীবের সঙ্গে তাদের কোনো সাদৃশ্য নেই । বিজ্ঞানী লউফের ( Lwoff ) ভাষায় “ Viruses are viruses because they are viruses . “

Leave a Comment

error: Content is protected !!