অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ

অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ

index 14
অণুবীক্ষণ যন্ত্র বা মাইক্রোস্কোপ

প্রথম জটিল অণুবীক্ষণ যন্ত্র দুজন ওলন্দাজ বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস এবং জাকারিয়াস জানসেন ( Francis and Zacharias Janssen ) 1590 খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কার করেন । পর্যায়ক্রমে আরও অনেকেই বিভিন্ন ধরনের অণুবীক্ষণ যন্ত্র আবিষ্কার করেন । এদের মধ্যে রবার্ট হুক ( Robert Hooke ) 1665 খ্রিস্টাব্দে তার নিজের তৈরি অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে কৰ্ক ক্যাম্বিয়ামের পাতলা চ্ছেদের গঠন লক্ষ করে ‘ কোশ ‘ শব্দটি প্রয়ােগ করেন । অণুবীক্ষণ যন্ত্রের সাহায্যে অণুজীব , কোশ কিম্বা কোশকলা প্রত্যক্ষ করা এবং সে সম্বন্ধে চর্চা করাকে মাইক্রোস্কোপি ( microscopy ) বলা হয় । 

মাইক্রোস্কোপ ( microscope শব্দটি গ্রিক micros = ক্ষুদ্র এবং skopein = পর্যবেক্ষণ ) এই দুটি কথা থেকে এসেছে । বাংলা ভাষায় অণুবীক্ষণ কথাটিতে আছে ( অণু = ক্ষুদ্র এবং বীক্ষণ = দেখা বা পর্যবেক্ষণ ) এই দুটি শব্দ । খালি চোখে দেখা যায় না এমন বস্তু দেখার জন্য মাইক্রোস্কোপ ব্যবহৃত হয় । আসলে মাইক্রোস্কোপের মূল ধর্ম হচ্ছে বিবর্ধক লেন্সের ( magnifying lens ) সঠিক প্রয়ােগ

কোনাে বস্তুতে আলাে পড়ে তা আমাদের লেন্সের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়ে চোখের রেটিনাতে পড়লে আমরা যেমন বস্তুটি দেখতে পাই , তেমনি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে কোনাে বস্তুকে দেখতে গেলে সেই বস্তুর উপরে আলাে পড়া দরকার । ওই আলাে বস্তুটির মধ্য দিয়ে লেন্সে প্রতিফলিত হয়ে চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই । বস্তুটি কতগুণ বড়াে এবং সুস্পষ্টভাবে দেখা যাবে তা নির্ভর করে মাইক্রোস্কোপের দুটি বৈশিষ্ট্যের ওপর । এই বৈশিষ্ট্য দুটি হচ্ছে 

( ক ) বিবর্ধন ( magnification ) এবং 

( খ ) সুস্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতা ( resolving power ) ।

বিবর্ধন ( magnification )

বিবর্ধন বলতে বােঝায় কোনাে বস্তুর প্রকৃত আকার আমাদের চোখের রেটিনা কতটা বর্ধিত অবস্থায় দেখতে পায় সেই বিষয়টি । অর্থাৎ বস্তুর প্রকৃত আকার রেটিনাতে যতটা বড়াে হয়ে ধরা পড়ে সেটাই ওই বস্তুর বিবর্ধিত ( maginification ) অবস্থা । বিবর্ধন ক্ষমতা ( Magnifying power )  যে সূত্রের সাহায্যে এটি বােঝানাে হয় তা এইরূপ —

অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দেখা রেটিনাতে উৎপন্ন বস্তুর আকার অণুবীক্ষণবিহীন ( খালি চোখে দেখা ) রেটিনাতে উৎপন্ন বস্তুর আকার ।

মাইক্রোস্কোপের মধ্যে উত্তল ( convex ) এবং অবতল ( concave ) লেন্স ( lens ) যৌথভাবে দেখার বিষয়টি ( optic system ) গঠন করে । এই লেন্সগুলিই চোখের রেটিনাতে বস্তুর আকৃতির বর্ধিত রূপ সৃষ্টি করে । সুতরাং কোনাে বস্তুর বর্ধিত রূপ যে মাইক্রোস্কোপে বস্তুটি দেখা হয়েছে তাতে ব্যবহৃত লেন্সের বিবর্ধন ক্ষমতার উপর নির্ভরশীল । ( একটি অণুবীক্ষণ যন্ত্রে দুধরনের লেন্স থাকে । এক ধরনের লেন্সের নীচে যে বস্তুটি দেখা হবে তাকে রাখা হয় । এদের বলে অবজেকটিভ লেন্স ( objective lens system ) এবং অপর ধরনের লেন্সের সাহায্যে বস্তুটির আকৃতি দর্শকের চোখে প্রবেশ করে । এই প্রকার লেন্সদের বলা হয় অকুলার লেন্স ( ocular lens system ) ।

 প্রথমে বস্তুটির আকার অবজেকটিভ লেন্সের মাধ্যমে বর্ধিত হয় এবং পরবর্তী ধাপে অকুলার লেন্স সেই বর্ধিত আকারকে আরও বর্ধিত করে । অতএব বিবর্ধন হচ্ছে অবজেকটিভ লেন্সের বিবর্ধন ক্ষমতা এবং অকুলার লেন্সের বিবর্ধন ক্ষমতার গুণফল । যদি কোনাে মাইক্রোস্কোপের অবজেকটিভের বিবর্ধন ক্ষমতা হয় 40x এবং অকুলারের বিবর্ধন ক্ষমতা হয় 10x , তবে বস্তুটি 40×10 = 400 গুণ বড়াে দেখা যাবে । 

সুস্পষ্টভাবে দেখার ক্ষমতা ( resolving power ) 

খুব কাছাকাছি অবস্থিত দুটি বস্তুকণা বা দুটি বিন্দুকে পৃথক করে সুস্পষ্টভাবে দেখানাের যে ক্ষমতা কোনাে বিবর্ধক যন্ত্র বা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের থাকে তাকে রিজলভিং পাওয়ার ( resolving power ) বলা হয় । এই বিষয়টি নির্ভর করে আলােকের উৎসের তরঙ্গদৈর্ঘ্য ( wave length of the illuminating agent ) বা ল্যাম্বডা এবং অবজেকটিভ লেন্সের আলাে সংগ্রহ করবার ক্ষমতা ( light gathering capacity of the objective lens ) -র ওপর। এই ক্ষমতাকে নিউমেরিক্যাল অ্যাপারচার ( numerical aperture ) বলা হয় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!