দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা

দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা

এটি পূর্ব ভারতের বৃহত্তম নদী উপত্যকা পরিকল্পনা । আগে দামােদর নদের নিম্ন উপত্যকায় এত বন্যা হত যে একে দুঃখের নদ বলা হত । দামােদরের এই বিধ্বংসী বন্যা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং সমগ্র উপত্যকার সর্বাঙ্গীণ উন্নতির জন্য ১৯৪৮ সালে ‘ দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনা  ’ নামে একটি বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয় । দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন নামে একটি সংস্থার দায়িত্বে , পশ্চিমবঙ্গ ও বিহার রাজ্য সরকার এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের যৌথ প্রচেষ্টায় ও আর্থিক সাহায্যে পরিকল্পনাটির রূপায়ণ শুরু হয় । পরিকল্পনাটি রূপায়ণের জন্য যেসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে , সেগুলি হল— 

বাঁধ নির্মাণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ 

দামোদর উপত্যকা পরিকল্পনায় মােট ৮ টি বাঁধ নির্মাণ করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছিল । এগুলি হল — মূল দামােদরের ওপর ( i ) পাঞেৎ , ( ii ) বারমাে , ( iii ) আয়ার -এর উপনদী বরাকরের ওপর ( iv ) মাইথন , ( v ) বেলপাহাড়ি , ( vi ) তিলাইয়া -এর উপনদী কোনারের ওপর ( vii ) কোনার এবং উপনদী বােকারাের ওপর ( viii ) বােকারাে বাঁধ । এই ৮ টি বাঁধের মধ্যে ১৯৫৯ সালের মধ্যেই মাইথন , পাঞ্চেৎ , তিলাইয়া ও কোনার — এই চারটি বাঁধ নির্মিত হয় । পরবর্তীকালে বােকারাের কাছে দামােদরের ওপর তেনুঘাটে পঞ্চম বাঁধ নির্মিত হয় ।

বিদ্যুৎ উৎপাদন 

দামােদর পরিকল্পনার অধীনে তিলাইয়া , পাঞ্চেৎ ও মাইথন -এ জলবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং বোকারাে , চন্দ্রপুরা , মেজিয়া ও দুর্গাপুরে তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে ।

সেচবাঁধ ও সেচখাল 

দুর্গাপুরে দামােদরের ওপর একটি সেচবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে । জলসেচের জন্য এই সেচবাঁধের দক্ষিণ ও বাম তীর থেকে প্রায় ২,৪৯৫ কিমি খাল ও শাখা খাল কাটা হয়েছে । 

নৌ পরিবহন 

দুর্গাপুর ব্যারেজের বাম তীর থেকে ১৩৭ কিমি দীর্ঘ একটি খাল কেটে হুগলি নদীর মাধ্যমে কলকাতার সঙ্গে জলপথে যােগাযােগের ব্যবস্থা করা হয়েছে । নিম্ন অববাহিকায় বিধ্বংসী বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং বর্ধমান , বাঁকুড়া , হাওড়া ও হুগলি জেলার প্রায় ৪-৫ লক্ষ হেক্টর কৃষিজমিতে জলসেচের সুবিধা ছাড়াও দামােদর উপত্যকা পরিকল্পনা রূপায়ণের ফলে ভূমি সংরক্ষণ , পর্যটনকেন্দ্র স্থাপন , জলপথে পরিবহন , বনভূমি সম্প্রসারণ প্রভৃতি বহুবিধ সুবিধা পাওয়া গেছে । 

Leave a Comment

error: Content is protected !!