জীবন কাকে বলে

জীবন কাকে বলে

images 2
জীবন কাকে বলে

জীবনের সংজ্ঞা কী হবে এ নিয়ে বহু বিতর্ক হয়েছে এবং আজও হচ্ছে । পুরাকালের মুনি-ঋষিরা এবং পরবর্তী যুগের দার্শনিকরা ঈশ্বরই পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি করেছেন এই তথ্যে বিশ্বাস করেন । অনেক সাধারণ মানুষের ধারণাও তাই । কিন্তু বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে , কতকগুলি বিশেষ বৈশিষ্ট্য একত্রে কাজ করে জীবের যে সত্তা প্রকাশিত হয় সেটিই হল জীবন । ওই বৈশিষ্ট্যগুলি যাদের নেই তারাই হল জড় পদার্থ । যাদের আছে তারা সজীব পদার্থ । 

জীবনের সংজ্ঞা ( Definition of life ) 

আগেই বলা হয়েছে , জীবনের একটি নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন তবুও আধুনিক বিজ্ঞানীরা জীবনের যে বিভিন্ন সংজ্ঞা দেন তার কয়েকটি নমুনা নীচে দেওয়া হল । 

( ১ ) পরিবেশ ও সজীব বস্তুর মধ্যে অনবরত যে বিক্রিয়া ঘটছে তারই বহিঃপ্রকাশই হল জীবন । 

( ২ ) সজীব বস্তুর বীজ যে ভাবে অঙ্কুরিত হয়ে সজীব বৈশিষ্ট্যের প্রকাশ ঘটায় তারই নাম জীবন । 

( ৩ ) বৃদ্ধি , প্রজনন , পরিব্যক্তি ও বিবর্তন বৈশিষ্ট্য যুক্ত কোশীয় সজীব জটিল জৈব যৌগকে জীবন বলা হয় ।

জীবনের বৈশিষ্ট্য ( Characteristics of life ) 

জীবনের বৈশিষ্ট্য গুলি হল一

আকার ও আয়তন ( Shape and Size ) :

প্রত্যেকটি জীবের নির্দিষ্ট আকার এবং আয়তন থাকে । 

প্রোটোপ্লাজমীয় সংযুক্তি ( Protoplasmic composition ) : 

এককোশী থেকে বহুকোশী জীব সকলের দেহই কোশ নিয়ে গঠিত । কোশের ভিতরের অন্যতম উপাদানকে বলা হয় প্রোটোপ্লাজম । 

সংগঠন ( Organization ) :

বহুকোশী জীবদের দেহে একাধিক একজাতীয় কোশ যুক্ত হয়ে কলা ( tissue ) তৈরি করে । একাধিক কলা সমন্বয়ে গঠিত হয় যন্ত্র ( organ ) । যন্ত্রগুলি মিলিত হয়ে তৈরি করে তন্ত্র ( system ) । আবার নানাবিধ তন্ত্র সহযােগে গঠিত হয় একটি সম্পূর্ণ জীবদেহ । জীবদেহের যাবতীয় অঙ্গের কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকে । 

বিপাক ( Metabolism ) :

প্রত্যেক জীবের দেহেই নানাপ্রকার রাসায়নিক বিক্রিয়া ধারাবাহিক ভাবে চলে । এই সকল বিক্রিয়ায় সমষ্টিগত ফলকে বিপাক বলা হয় । 

পুষ্টি ( Nutrition ) :

সকল সজীব বস্তু খাদ্যগ্রহণ করে বেঁচে থাকে । খাদ্য দেহের মধ্যে পাচিত হয় এবং পাচিত বস্তু কোশের মধ্যে অঙ্গীভূত হয় । ফলে জীবের পুষ্টি সাধিত হয় । 

শ্বসন ( Respiration ) :

যে প্রক্রিয়ায় খাদ্যের সঞ্চিত স্থিতিশক্তি অক্সিজেনের সাহায্যে জারিত হয়ে গতিশক্তি রূপে দেহ থেকে বেরিয়ে আসে তাকে বলা হয় শ্বসন । 

রেচন ( Excretion ) :

যে পদ্ধতিতে জীবদেহ থেকে বিপাকের ফলে উৎপন্ন ক্ষতিকারক বর্জবস্তু দেহ থেকে বহিষ্কৃত হয় তাকে রেচন বলে ।  

ক্ষরণ ( Secretion ) :

জীবদেহে হরমােন , উৎসেচক , রঞ্জক প্রভৃতি বিভিন্ন প্রকার বস্তু অপচিতি বিপাকের ফলে উৎপন্ন হয় । বস্তুগুলি জীবের বিভিন্ন প্রকার জৈবিক কার্যে সাহায্য করে । 

পরিবহন ( conduction ) এবং সংবহন ( circulation ) : 

জীবদেহে ( বিশেষত ) উদ্ভিদের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বস্তু দেহ রসের মাধ্যমে দেহের মূল থেকে পত্র পর্যন্ত এবং পত্র থেকে দেহের বিভিন্ন অংশে যে প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পরে তাকে পরিবহন বলা হয় । উন্নত প্রাণীদের দেহে দেহরস নালিকা এবং লসিকাবাহের মাধ্যমে দেহের মধ্যে সঞ্চালিত হয়ে থাকে । এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় সংবহন । 

বৃদ্ধি ( Growth ) :

প্রতিটি জীবই খাদ্যগ্রহণ করে । খাদ্যের আত্তীকরণের মাধ্যমে কোশের প্রোটোপ্লাজমের মধ্যে নতুন জৈব যৌগ সঞ্চিত হয় । ফলে জীবকোশের আয়তনের বৃদ্ধি ঘটে । 

চলন ও গমন ( Locomotion ) :

উন্নত উদ্ভিদ উত্তেজনায় সাড়া দিয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে সম্পূর্ণভাবে সরে যেতে পারে না । তবে একই জায়গায় অবস্থান করে তারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন করতে পারে । এই প্রকার ঘটনাকে বলা হয় চলন ( movement ) । অপরদিকে প্রাণীরা উদ্দীপকের প্রভাবে একস্থান থেকে অন্যত্র সরে যেতে পারে । এই ঘটনাকে বলা হয় গমন ( Locomotion ) । প্রাণীরা চলন এবং গমন দুটি কাজই করতে পারে । এজন্য এদের অনেকের নির্দিষ্ট চলন এবং গমন অঙ্গ আছে । 

উত্তেজিতা ( Irritability ) :

উত্তেজনায় সাড়া দেবার ক্ষমতা সকল জীবেই দেখা যায় । এই ক্ষমতাকে বলা হয় উত্তেজিতা । 

জনন ( Reproduction ) :

প্রত্যেক জীবই অপত্য সৃষ্টি করে নিজের বৈশিষ্ট্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে । যে প্রক্রিয়ায় বংশবৃদ্ধি ঘটে তাকে জনন বলা হয় । 

জন্ম ও মৃত্যু ( Birth & Death ) :

প্রতিটি জীবই নির্দিষ্ট আয়ুষ্কালের পরে মৃত্যুবরণ করে । জন্ম এবং মৃত্যুর আবর্তনকে জীবন চক্র ( Life cycle ) বলে ।

1 thought on “জীবন কাকে বলে”

Leave a Comment

error: Content is protected !!