সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে

সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে

index 36
সামাজিক বনসৃজন কাকে বলে

প্রধানত অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির মানুষদের জন্য যখন নির্ধারিত অরণ্য সীমার বাইরে , অব্যবহৃত জমি বা পতিত জমিতে অরণ্য সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয় , তখন তাকে সামাজিক বনসৃজন বলা হয় । সামাজিক বনসৃজনের জন্য যেসব ভূমি বেছে নেওয়া হয় সেগুলি হল— ( ১ ) খাল ও নদীর পাড়ের জমি , ( ২ ) রেলপথ ও সড়কপথের দু-পাশের ফাঁকা জমি , ( ৩ ) পুকুর বা দিঘির পাড় , ( ৪ ) খনি এলাকা , ( ৫ ) বিদ্যালয় , অফিস , ধর্মস্থান প্রভৃতির উন্মুক্ত জায়গা , ( ৬ ) পতিত জমি প্রভৃতি । সামাজিক বনসৃজনের মূল লক্ষ্য একদিকে যেমন দেশে বিভিন্ন ধরনের কাঠের উৎপাদন বাড়ানাে , অন্যদিকে তেমনি অব্যবহৃত , পতিত ও পরিত্যক্ত জমিকে লাভজনক কাজে ব্যবহার করা এবং পরিবেশ তথা আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রেরও উন্নতি ঘটানাে ।

সামাজিক বনসৃজন এর উদ্দেশ্য

সামাজিক বনসৃজন এর প্রধান উদ্দেশ্য গুলি হলㅡ

( ১ ) পরিবেশের উন্নতি সাধনের মাধ্যমে জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদানগুলির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে কৃষিকে রক্ষা করা ।  

( ২ ) গ্রামাঞ্চলে গৃহস্থের জ্বালানি কাঠ ও গৃহ নির্মাণের কাঠ , গবাদিপশু পালনের জন্য পশুখাদ্য এবং স্থানীয় শিল্পের জন্য গৌণ বনজ দ্রব্যের জোগান বাড়ানাে । 

( ৩ ) গ্রামবাসী ও নগরবাসীর বনভূমি কেন্দ্রিক বিনােদন ও সেই সঙ্গে ভূদৃশ্যাবলির ( Landscape ) প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা । 

( ৪ ) অদক্ষ শ্রমিক ও বেকারদের কর্ম সংস্থানের সুযােগ বৃদ্ধি করা । 

( ৫ ) পতিত জমি পুনরুদ্ধার ও ভূমিক্ষয় রােধ করা । 

( ৬ ) সার্বিকভাবে গ্রাম ও নগরবাসীকে সুস্থ জীবন প্রদান ও জীবনযাত্রার মানােন্নয়ন ঘটানাে । 

Leave a Comment

error: Content is protected !!