ভারতের জলবায়ুর শ্রেণীবিভাগ

ভারতের জলবায়ুর শ্রেণীবিভাগ

index 33
ভারতের জলবায়ুর শ্রেণীবিভাগ

জলবায়ু অঞ্চল বলতে এমন একটি এলাকাকে বােঝায় যার সর্বত্র জলবায়ুর বিভিন্ন উপাদান , বিশেষত উষ্ণতা ও বৃষ্টিপাতের প্রকৃতি মােটামুটি একই রকম । কোপেন ( Koppen ) -এর মত অনুসরণ করে ট্রেওয়ার্থা ( Trewartha ) ভারতকে আটটি জলবায়ু অঞ্চলে ভাগ করেছেন । এগুলি হল—  

( ১ ) ক্রান্তীয় অতি আর্দ্র মৌসুমি অঞ্চল , ( ২ ) ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল , ( ৩ ) ক্রান্তীয় শুষ্ক গ্রীষ্ম ও শীতকালীন বৃষ্টিপাত অঞ্চল ,( ৪ ) ক্রান্তীয় মরুপ্রায় এবং উপক্ৰান্তীয় স্টেপ অঞ্চল , ( ৫ ) উ‌‌ষ্ণ মরু অঞ্চল , ( ৬ ) নাতিশীতাে‌ষ্ণ স্বল্প গ্রীষ্ম ও শীতল আর্দ্র অঞ্চল , ( ৭ ) আর্দ্র উপক্ৰান্তীয় মৌসুমি ( শুষ্ক শীত ) অঞ্চল , ( ৮ ) শীতল পার্বত্য অঞ্চল ‌

ক্রান্তীয় অতি আর্দ্র মৌসুমি অঞ্চল 

পশ্চিম উপকূলে যেখানে গড়ে ৩০০ সেন্টিমিটারেরও বেশি বার্ষিক বৃষ্টিপাত হয় এবং বার্ষিক তাপমাত্রা ১৮° থেকে ২৭° সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে সেখানে এই জলবায়ু দেখা যায় । মহারাষ্ট্র , কর্ণাটক ও কেরালার উপকূল অঞ্চল , পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চিম ঢাল , মেঘালয় , মিজোরাম , মণিপুর এবং অসমের কাছাড় জেলা এই বিভাগের অন্তর্গত । বৃষ্টিপাত খুব বেশি বলে এই অঞ্চলে প্রধানত চিরসবুজ গাছ জন্মায় । 

ক্রান্তীয় সাভানা অঞ্চল 

গুজরাত , মহারাষ্ট্র , ছত্তিশগড় , ঝাড়খণ্ড , পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাংশ , ওড়িশা প্রভৃতি রাজ্য এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত । অতি উষ্ণ গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক শীতকাল — এখানকার জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য । এই জলবায়ুতে পাতাঝরা গাছ এবং সাভানা ঘাস জন্মায় । 

ক্রান্তীয় শুষ্ক গ্রীষ্ম ও শীতকালীন বৃষ্টিপাত অঞ্চল 

পূর্ব উপকূলের দক্ষিণাংশে এই জলবায়ু দেখা যায় । এখানে সাধারণত শীতকালেই বেশি বৃষ্টিপাত হয় এবং গ্রীষ্মকাল প্রায় শুষ্ক । 

ক্রান্তীয় মরুপ্রায় এবং উপক্ৰান্তীয় স্টেপ অঞ্চল 

পশ্চিমঘাট পর্বতের বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চল এবং রাজস্থানের পূর্বভাগ ও পাঞ্জাবের দক্ষিণ-পশ্চিমাংশে এই জলবায়ু দেখা যায় । এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কম । এজন্য ছােটো ছােটো গাছ , ঘাস , ঝােপঝাড় , কাঁটাগাছ প্রভৃতি জন্মায় । 

উ‌‌ষ্ণ মরু অঞ্চল 

পশ্চিম রাজস্থানের মরু অঞ্চল এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত । এখানকার জলবায়ু চরমভাবাপন্ন । এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুবই কম । আবার , গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ৪৮০ সেন্টিগ্রেড পর্যন্ত ওঠে । ক্যাকটাস জাতীয় কাঁটাগাছ ছাড়া এখানে অন্য কোনাে উদ্ভিদ বিশেষ জন্মায় না ।

নাতিশীতাে‌ষ্ণ স্বল্প গ্রীষ্ম ও শীতল আর্দ্র অঞ্চল 

অরুণাচল প্রদেশ এবং অসমের পূর্বাংশ এই জলবায়ু অঞ্চলের অন্তর্গত । এখানে তাপমাত্রা খুব বেশি ওঠে না কিন্তু বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ গড়ে ৩০০ সেন্টিমিটারেরও বেশি ।

আর্দ্র উপক্ৰান্তীয় মৌসুমি ( শুষ্ক শীত ) অঞ্চল 

উত্তর ভারতের সমভূমির অধিকাংশ স্থানে এই জলবায়ু দেখা যায় । এখানে বেশিরভাগ বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালে হয় , তবে বৃষ্টিপাত পূর্ব থেকে পশ্চিমে ক্রমশ কম । এখানে অধিকাংশ পাতাঝরা গাছ জন্মায় । 

শীতল পার্বত্য অঞ্চল 

পশ্চিম হিমালয়ের উচ্চ অংশে এই জলবায়ু দেখা যায় । এখানে প্রায় সারা বছরই তীব্র ঠান্ডা থাকে এবং শীতকালে তুষারপাত হয় । পর্বতের ওপরের দিকে তৃণভূমি এবং নীচের দিকে সরলবর্গীয় গাছ জন্মায় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!