দক্ষিণ ভারতের নদনদী

দক্ষিণ ভারতের নদনদী

index 29
দক্ষিণ ভারতের নদনদী

প্রবাহের দিক অনুসারে দক্ষিণ ভারতের নদনদীকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— ( ১ ) পূর্ব বাহিনী নদী এবং ( ২ ) পশ্চিম বাহিনী নদী  । 

পূর্ব বাহিনী নদী

দক্ষিণ ভারতের পূর্ব বাহিনী নদীগুলির মধ্যে সুবর্ণরেখা , মহানদী , গােদাবরী , কৃষ্ণা , কাবেরী প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য । 

সুবর্ণরেখা নদী :

ঝাড়খণ্ড রাজ্যের ছোটোনাগপুর মালভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে সুবর্ণরেখা নদী ওড়িশার বালেশ্বরের কাছে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে । সুবর্ণরেখা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৩ কিমি । ছােটোনাগপুরে সুবর্ণরেখা নদীর গতিপথেই সৃষ্টি হয়েছে বিখ্যাত হুড্রু জলপ্রপাত । 

মহানদী : 

এটি ছত্তিশগড় রাজ্যের রায়পুর জেলার সিহাওয়ার উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়েছে । তারপর ওড়িশার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নারাজ -এর কাছে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে । মহানদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৮৯০ কিমি । মােহানার কাছে মহানদী বেশ বড়াে বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে । মহানদীর উপনদী সমূহের মধ্যে শিওনাথ , ব্রাহ্মণীবৈতরণী প্রধান । 

গোদাবরী : 

দক্ষিণ ভারতের প্রধান নদী গােদাবরী । মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার অন্তর্গত পশ্চিমঘাট পর্বতের ত্র্যম্বক উচ্চভূমি থেকে উৎপন্ন হয়ে মহারাষ্ট্র ও অন্ধ্রপ্রদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে রাজমুন্দ্রীর কাছে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে । গোদাবরী নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪৬৫ কিমি । মােহানার কাছে গােদাবরী নদীও পলি সঞ্চয় করে একটি বিশাল বদ্বীপ সৃষ্টি করেছে । মঞ্জীরা , প্রাণহিতা , ইন্দ্রাবতী প্রভৃতি গােদাবরীর উল্লেখযােগ্য উপনদী । গােদাবরীর শাখানদীগুলির মধ্যে গৌতমী , বশিষ্ঠ এবং বৈনতেয় প্রধান । দক্ষিণ ভারতের দীর্ঘতম নদী বলে গোদাবরী নদীকে ‘ দক্ষিণ ভারতের গঙ্গা ‘বা ‘ দক্ষিণী গঙ্গা ‘ বা ‘ বৃদ্ধ গঙ্গা ‘ বলা হয়।

কৃষ্ণা নদী :

মহাবালেশ্বরের কাছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা থেকে উৎপন্ন হয়ে কৃষ্ণা নদী মহারাষ্ট্র , কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে । কৃষ্ণা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১২৯০ কিমি । কৃষ্ণা নদীর মােহনাতেও বিশাল বদ্বীপ আছে । ভীমা , তুঙ্গভদ্রা , বেদবতী প্রভৃতি কৃষ্ণার উল্লেখযােগ্য উপনদী ।

কাবেরী নদী : 

কাবেরী নদী কর্ণাটকের ব্ৰহ্মগিরি পর্বত থেকে উৎপন্ন হয়ে কর্ণাটক ও তামিলনাড়ু রাজ্যের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে । কাবেরী নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭৬০ কিমি । কাবেরী নদীর গতিপথে আছে বিখ্যাত শিবসমুদ্রম জলপ্রপাত এবং এর মােহানায় আছে বেশ বড়াে বদ্বীপ । ভবানী , হিমাবতী প্রভৃতি কাবেরীর উল্লেখযােগ্য উপনদী ।

অন্যান্য পূর্ব বাহিনী নদী : 

দক্ষিণ ভারতের আরও কয়েকটি উল্লেখযােগ্য পূর্ব বাহিনী নদী হল পেনার , ভাইগাই , তাম্রপর্ণী প্রভৃতি । 

পশ্চিম বাহিনী নদী

নর্মদা , তাপী বা তাপ্তী ও সবরমতী — এই তিনটি দক্ষিণ ভারতের উল্লেখযােগ্য পশ্চিম বাহিনী নদী । 

নর্মদা নদী : 

মধ্যপ্রদেশ-ছত্তিশগড় রাজ্যের সীমানায় অবস্থিত মহাকাল পর্বতের অমরকন্টক শৃঙ্গ থেকে উৎপন্ন হয়ে নর্মদা নদী বিন্ধ্য ও সাতপুরার মাঝখানের সংকীর্ণ গ্রস্ত উপত্যকা অতিক্রম করে ব্রোচের কাছে কাম্বে উপসাগরে পড়েছে । নর্মদা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫৭০ কিমি । জব্বলপুরের কাছে ভােরঘাটের মার্বেল পাথর অঞ্চলে নর্মদা নদী একটি নয়নাভিরাম জলপ্রপাত সৃষ্টি করেছে । এর নাম ধুয়াধার জলপ্রপাত । 

তাপ্তি নদী :

মধ্যপ্রদেশের মহাদেব পাহাড়ের মুলতাই নামে একটি জায়গায় উৎপন্ন হয়ে তাপ্তী নদী সাতপুরার দক্ষিণে একটি সংকীর্ণ উপত্যকা পার হয়ে সুরাতের কাছে কাম্বে উপসাগরে পড়েছে । তাপ্তি নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৭২৪ কিমি । তাপ্তীর একটি উপনদীর নাম পূর্ণাতাপ্তী নদীর মোহনায় বদ্বীপ নেই

সবরমতী নদী : 

আরাবল্লি পর্বতে উৎপন্ন হয়ে গুজরাতের কাম্বে উপসাগরে পড়েছে ।  সবরমতী নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৬ কিমি । সবরমতী নদীর উপনদীগুলি হলো ওয়াতরক , ওয়াকল

অন্যান্য পশ্চিম বাহিনী নদী : 

পশ্চিমঘাট পর্বতমালার পশ্চিম ঢাল থেকে উৎপন্ন হয়ে কয়েকটি ক্ষুদ্র নদী পশ্চিমে আরব সাগরে পড়েছে । এগুলির মধ্যে সরাবতী , উলহাস , নেত্রবতী , সাবিত্রী প্রভৃতি উল্লেখযােগ্য । সরাবতী নদীর গতিপথে আছে ভারতের উচ্চতম জলপ্রপাত গেরসোপ্পা ’ বা ‘ যোগ জলপ্রপাত ‘ । 

Leave a Reply

Your email address will not be published.

x
error: Content is protected !!