হিমালয় পর্বত সৃষ্টির কারণ

হিমালয় পর্বত সৃষ্টির কারণ

main qimg b2b38a71ea1cf665c20387ea84aa3420
হিমালয় পর্বত সৃষ্টির কারণ

হিমালয় পর্বতমালার উৎপত্তি বা সৃষ্টির কারণ দু-ভাবে ব্যাখ্যা করা যায়— ( ১ ) মহীখাত তত্ত্ব বা জিওসিনক্লাইন থিয়োরি অনুসারে এবং ( ২ ) পাত সংস্থান তত্ত্ব বা প্লেট টেকটনিক তত্ত্ব অনুসারে । 

মহীখাত তত্ত্ব বা জিওসিনক্লাইন থিয়োরি অনুসারে হিমালয় পর্বতের উৎপত্তি

বহু কোটি বছর আগে বর্তমানে যেখানে হিমালয়ের অবস্থান সেখানে একটি অগভীর সাগর বা মহীখাত বা জিওসিনক্লাইন ( Geosyncline ) ছিল , যার নাম টেথিস সাগর বা টেথিস মহীখাত । টেথিস সাগরের উত্তরে ও দক্ষিণে দুটি প্রাচীন ভূমি ছিল — উত্তরে আঙ্গারাল্যান্ড ও দক্ষিণে গন্ডােয়ানাল্যান্ড । দু-পাশের এই দুটি উঁচু ভূভাগ থেকে সেই সময়কার অসংখ্য নদনদী পলি বয়ে এনে টেথিস সাগরকে ক্রমশ ভরাট করে ফেলে ।

টার্শিয়ারি যুগে অর্থাৎ এখন থেকে প্রায় ৭ কোটি বছর আগে ভূভাগ দুটি পরস্পরের কাছে চলে আসার ফলে টেথিস সাগরের পাললিক শিলাস্তরে প্রচণ্ড পার্শ্বচাপ পড়ে । এতে ওই শিলাস্তর ভাঁজ খেয়ে ওপরে উঠে যায় এবং সৃষ্টি হয় পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় । এইভাবে ভাঁজ পড়ে হিমালয় তৈরি হয়েছে বলে এর নাম ভঙ্গিল পর্বত । আর হিমালয়ের বয়স খুব কম বলে একে নবীন ভঙ্গিল পর্বত বলে । 

পাত সংস্থান তত্ত্ব বা প্লেট টেকটনিক তত্ত্ব অনুসারে হিমালয় পর্বতের উৎপত্তি

এই তত্ত্ব অনুসারে ভূত্বক কতকগুলি চলমান পাত বা প্লেটের সমন্বয়ে গঠিত । এগুলির মধ্যে হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টিতে ভারতের উপদ্বীপীয় পাত এবং ইউরেশীয় পাতের ভূমিকাই বেশি । দুটি পাতই একই দিকে সচল হলেও উপদ্বীপীয় পাতটি দক্ষিণ থেকে উত্তরদিকে বেশি এগিয়ে যাওয়ার ফলে ইউরেশীয় পাতের গায়ে ধাক্কা খায় । এইভাবে সংঘর্ষের ফলে উপদ্বীপীয় পাতের সম্মুখস্থ পলিরাশিতে ভাঁজ পড়ে হিমালয় পর্বতের সৃষ্টি হয় ।

উপদ্বীপীয় পাতটি এখনও প্রতি বছর প্রায় ৫.৪ সেমি হারে উত্তরদিকে এগিয়ে চলেছে , তাই হিমালয় অঞ্চলে পাতজনিত সংঘর্ষ প্রক্রিয়াও এখন কার্যকারী আছে এবং এর ফলে হিমালয়ের উত্থান এখনও ঘটে চলেছে ।

2 thoughts on “হিমালয় পর্বত সৃষ্টির কারণ”

Leave a Comment

error: Content is protected !!