ঘূর্ণবাত কাকে বলে

ঘূর্ণবাত কাকে বলে

index 20
ঘূর্ণবাত কাকে বলে

স্থলভাগ কিংবা জলভাগের কোনো পরিসর স্থান হঠাৎ উত্তপ্ত হলে সেখানকার বাতাস হালকা হয় ও পার্শ্বচাপের ফলে ওপরে উঠে গিয়ে ওই স্থানে এক শক্তিশালী নিম্নচাপ কক্ষ বা কেন্দ্র ( Low Pressure Cell or Center ) গঠন করে । বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরে ওই কেন্দ্রকে ঘিরে খাড়া চাপঢাল তৈরি হয় । তখন চারদিক থেকে বাতাস প্রবল বেগে কুণ্ডলী আকারে পাক খেতে খেতে কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে এবং পর্যায়ক্রমে উষ্ণ ও ঊর্ধ্বগামী হয় । নিম্নচাপ কক্ষকে ঘিরে কেন্দ্রাভিমুখী এবং ঊর্ধ্বগামী দ্রুতগতি সম্পন্ন উ‌ষ্ণ ঘূর্ণি বায়ুকে ঘূর্ণবাত বলে । উত্তর গােলার্ধে এই প্রকার বায়ু বামাবর্তে অর্থাৎ ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে প্রবাহিত হয় । ঘূর্ণবাত ক্রান্তীয় ও নাতিশীতোষ্ণ মণ্ডলে লক্ষ করা যায় । কোনাে কোনাে স্থানে ইহা প্রচণ্ড বিধংসী আকার ধারণ করে । 

ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য

( ১ ) ঘূর্ণবাতের সমগ্র এলাকায় বায়ুর চাপ খুবই কম থাকে । বিশেষ করে ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে চাপ সর্বনিম্ন হয় । ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে এই চাপ ৮৫০-৯০০ মিলিবারও হয়ে থাকে । 

( ২ ) ঘূর্ণবাতের মাঝখানে একটি প্রায় বর্তুলাকার কেন্দ্র থাকে , একে ঘূর্ণবাতের চক্ষু ( eye ) বলে ।

( ৩ ) ঘূর্ণবাতের বাইরের সীমানা ও কেন্দ্রের মধ্যে তাপের পার্থক্য যেমন তীব্র , তেমনি চাপের পার্থক্যও প্রবল । 

( ৪ ) বায়ু নিম্নচাপ কক্ষের চারদিকে আবর্তিত হতে হতে প্রবাহিত হয় । এটি উত্তর গােলার্ধে বামাবর্তে ও দক্ষিণ গােলার্ধে দক্ষিণাবর্তে প্রবাহিত হয় । 

( ৫ ) বায়ুপ্রবাহের গতি ঘণ্টায় ২০ কিমি-র কম হয় না এবং গতিবেগ ৪০০ কিমি পর্যন্ত হতে পারে । 

( ৬ ) প্রত্যেক ঘূর্ণবাতে ঘূর্ণির ( vortex ) একটি শীর্ষ ( apex ) থাকে । এই শীর্ষ ঊর্ধ্ব স্তরে জেট বায়ু স্রোতের সঙ্গে যুক্ত হলে ঘূর্ণবাতের গতি পথ ওই বায়ুস্রোতের পথকে অনুসরণ করে । এছাড়া বায়ুর চাপ বলয়ের স্থানান্তরের সাথে সাথেও এর গতিপথ পরিবর্তিত হয় । 

( ৭ ) ঘূর্ণবাত ক্ষণস্থায়ী ও স্বল্প স্থায়ী হয় এবং কোনাে স্থানের ওপর স্থির থাকতে পারে কিংবা চলমান হতে পারে । 

( ৮ ) ঘূর্ণবাত মাঝারি শক্তি থেকে ভয়ংকর শক্তিশালী হয় । 

( ৯ ) লীনতাপ ও জলীয়বাষ্প থেকে ঘূর্ণবাত তার শক্তিলাভ করে । এই শক্তি গতিশক্তিতে ( kinetic energy ) পরিণত হয় ও ঘূর্ণবাতকে সক্রিয় রাখে । এজন্য ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সমুদ্রের উপর উৎপন্ন হয়ে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসতে পারে । 

( ১০ ) ঘূর্ণবাত যতক্ষণ অবস্থান করে , ততক্ষণ আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ থাকে । ঘূর্ণবাত সরে গেলে কিংবা দুর্বলতর হয়ে গেলে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যায় । 

Leave a Comment

error: Content is protected !!