ঘূর্ণবাতের শ্রেণীবিভাগ

ঘূর্ণবাতের শ্রেণীবিভাগ

index 12
ঘূর্ণবাতের শ্রেণীবিভাগ

কোনাে স্বল্প পরিসর স্থান কোনাে কারণে খুব বেশি উ‌ষ্ণ হলে গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় । বায়ুচাপের সমতা রক্ষা করার জন্য পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বায়ু নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে প্রবল বেগে ছুটে আসে ও উর্ধ্বমুখী হয় । এই বায়ুকে ঘূর্ণবাত বলে । আঞ্চলিক অবস্থান ও প্রকৃতিগত পার্থক্য অনুযায়ী ঘূর্ণবাতকে [ 1 ] ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত ও [ 2 ] নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত — এই দুই ভাগে ভাগ করা হয় । 

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত 

উভয় গােলার্ধের ক্রান্তীয় অঞ্চলে 5° থেকে 20° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষরেখার মধ্যবর্তী অঞ্চলে অধিকাংশ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত সংঘটিত হয় । এই অঞ্চলে অত্যধিক উ‌ষ্ণতার জন্য সমুদ্রের উপরিভাগের বায়ু উ‌ষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে ওপরের দিকে উঠে যায় । ফলে , এই অঞ্চলে গভীর নিম্নচাপের সৃষ্টি হয় । তখন চারপাশের অপেক্ষাকৃত শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে কুণ্ডলীর আকারে ঘুরতে ঘুরতে এইরূপ গভীর নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে ধেয়ে আসে । ক্রান্তীয় অঞ্চলে এইরুপ প্রবল গতিসম্পন্ন কেন্দ্রমুখী ঘূর্ণায়মান উর্ধ্বগামী বায়ুপ্রবাহকে ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত বলে । 

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাতের বৈশিষ্ট্য

ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত এর বৈশিষ্ট্য গুলি হল —

⏩ ঘূর্ণবাতের কেন্দ্রে থাকে নিম্নচাপ এবং বাইরের দিকে থাকে উচ্চচাপ । বায়ুচাপের পার্থক্য 30 মিলিবারের বেশি হয় । 

⏩ এই বায়ু উত্তর গােলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে এবং দক্ষিণ গােলার্ধে ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রের দিকে ধেয়ে আসে । 

⏩ প্রবল ঘূর্ণবাতের উচ্চতা প্রায় 12 থেকে 16 কিমি এবং ব্যাস 200 থেকে 700 কিমি । ঘূর্ণবাতের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় 120 কিমি থেকে 160 কিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে । এর গতিবেগ ঘণ্টায় 200 কিলােমিটারের বেশি হলে তাকে সুপার সাইক্লোন বলে । 

⏩ বিধ্বংসী ঘূর্ণাতের কেন্দ্রে প্রায় বায়ুহীন , মেঘহীন , শান্ত অবস্থা বিরাজ করে । একে ঝড়ের চক্ষু বলে ।

নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত

নিরক্ষরেখার উভয় দিকে 35° থেকে 65° অক্ষরেখার মধ্যে দুটি ভিন্নধর্মী বায়ু — মেরু অঞ্চল থেকে আগত শুষ্ক ও শীতল ভারী বায়ুপুঞ্জের সঙ্গে ক্রান্তীয় অঞ্চল থেকে আগত উ‌ষ্ণ-আর্দ্র বায়ুপুঞ্জের সংঘর্ষ হয় । এদের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শীতল ও ভারী বায়ু উষ্ণ বায়ুর স্থান দখল করে । ফলে , উ‌ষ্ণ বায়ু সীমান্ত বরাবর শীতল বায়ুর ওপর প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে ওপরে উঠে যায় , সৃষ্টি হয় ঘূর্ণবাত । একে নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত বলে । 

নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত এর বৈশিষ্ট্য 

নাতিশীতোষ্ণ ঘূর্ণবাত এর বৈশিষ্ট্য গুলি হল —

⏩ এই ঘূর্ণবাত দীর্ঘস্থায়ী হয় । 

⏩ এই ঘূর্ণবাতে বায়ুর গতিবেগ ক্রান্তীয় ঘূর্ণবাত অপেক্ষা কম , তাই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও কম । 

⏩ এদের প্রভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে ঝিরঝিরে বৃষ্টি হয় ।

Leave a Comment

error: Content is protected !!